Skip to main content
Source
Bengali Indian Express
Author
IE Bangla Web Desk
Date

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটগ্রহণের আগে প্রার্থীদের চারিত্রিক ও আর্থিক খতিয়ান প্রকাশ করে চাঞ্চল্য ফেলে দিল 'অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্রেটিক রিফর্মস' (ADR) এবং পশ্চিমবঙ্গ ইলেকশন ওয়াচ।

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটগ্রহণের আগে প্রার্থীদের চারিত্রিক ও আর্থিক খতিয়ান প্রকাশ করে চাঞ্চল্য ফেলে দিল 'অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্রেটিক রিফর্মস' (ADR) এবং পশ্চিমবঙ্গ ইলেকশন ওয়াচ। তাদের সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, আগামী ২৩শে এপ্রিল রাজ্যের ১৫২টি আসনে যে ১৪৭৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, তাঁদের মধ্যে ২৩ শতাংশ বা ৩৪৫ জনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা রয়েছে। আরও চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, ২০ শতাংশ বা ২৯৪ জন প্রার্থীর বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টা ও নারী নির্যাতনের মতো অত্যন্ত গুরুতর অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিচার করে ১৫২টি নির্বাচনী ক্ষেত্রের মধ্যে ৬৬টি-কে (প্রায় ৪৩ শতাংশ) ‘রেড অ্যালার্ট’ বা অতি-স্পর্শকাতর কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যেখানে অন্তত ৩ জন প্রার্থীর বিরুদ্ধে অপরাধমূলক মামলা রয়েছে।

দলের ভিত্তিতে খতিয়ান দেখলে দেখা যাচ্ছে, অপরাধের মামলা থাকায় প্রধান দলগুলির মধ্যে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে বিজেপি। পদ্ম শিবিরের ১৫২ জন প্রার্থীর মধ্যে ১০৬ জনের (৭০ শতাংশ) বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের ১৪৮ জনের মধ্যে ৬৩ জন (৪৩ শতাংশ), সিপিআইএম-এর ৯৮ জনের মধ্যে ৪৩ জন (৪৪ শতাংশ) এবং কংগ্রেসের ১৫১ জনের মধ্যে ৩৯ জন (২৬ শতাংশ) প্রার্থীর বিরুদ্ধেও রয়েছে বিভিন্ন অভিযোগ। এমনকি ১৮ জন প্রার্থীর বিরুদ্ধে খুনের মামলা এবং ৯৮ জনের বিরুদ্ধে নারীঘটিত অপরাধের মামলা রয়েছে, যার মধ্যে ৬ জন ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত।

আর্থিক দিক থেকেও এবারের প্রার্থীরা বেশ প্রতিপত্তিশালী। রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রথম দফার ২১ শতাংশ প্রার্থী অর্থাৎ ৩০৯ জনই কোটিপতি। প্রার্থীদের গড় সম্পত্তির পরিমাণ ১.৩৪ কোটি টাকা। জঙ্গিপুরের জাকির হোসেন ১৩৩.৫২ কোটি টাকার সম্পত্তি নিয়ে তালিকার শীর্ষে রয়েছেন। কোটিপতি প্রার্থীদের তালিকায় এগিয়ে রয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস; তাদের ১৪৮ জন প্রার্থীর মধ্যে ১০৬ জনই (৭২ শতাংশ) কোটিপতি। বিজেপির ৪৭ শতাংশ, কংগ্রেসের ৩৩ শতাংশ এবং সিপিআইএম-এর ২৪ শতাংশ প্রার্থী ১ কোটি টাকার বেশি সম্পত্তির মালিক। বিপরীতে, প্রায় ৪৮.৭ শতাংশ প্রার্থীর ব্যক্তিগত সম্পদ ২০ লক্ষ টাকার নিচে এবং তিন জন প্রার্থী তো ১০০০ টাকারও কম সম্পত্তি ঘোষণা করেছেন।

শিক্ষা এবং লিঙ্গ বৈষম্যের ক্ষেত্রেও রিপোর্টে স্পষ্ট চিত্র ফুটে উঠেছে। প্রথম দফার প্রার্থীদের মধ্যে মাত্র ১১ শতাংশ বা ১৬৭ জন মহিলা। ৪৭ শতাংশ প্রার্থী স্নাতক বা তার বেশি শিক্ষিত হলেও অর্ধেকের বেশি প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতা পঞ্চম থেকে দ্বাদশ শ্রেণীর মধ্যে। বয়সের নিরিখে অর্ধেকের বেশি প্রার্থীর বয়স ৪১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে। সামগ্রিকভাবে এই রিপোর্ট থেকে স্পষ্ট যে, প্রথম দফার ভোটে কোটিপতি এবং বাহুবলী নেতাদের দাপট যথেষ্ট বেশি, যা নিয়ে ভোটারদের মধ্যে তীব্র চর্চা শুরু হয়েছে।


abc