ভারতের ৩০ জন মুখ্যমন্ত্রীর মধ্যে ১২ জনের (প্রায় ৪০%) বিরুদ্ধেই ফৌজদারি মামলা চলমান রয়েছে— এমন তথ্য উঠে এসেছে ভারতের নির্বাচন ও গণতন্ত্র পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা অ্যাসোসিয়েশন অব ডেমোক্রেটিক রিফর্মস (এডিআর) প্রকাশিত এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি ফৌজদারি মামলা রয়েছে দক্ষিণ ভারতের রাজ্য তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী রেভান্ত রেড্ডির বিরুদ্ধে— মোট ৮৯টি মামলা। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিন, যার বিরুদ্ধে রয়েছে ৪৭টি মামলা।
তালিকার তৃতীয় অবস্থানে আছেন অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু (১৯টি মামলা), চতুর্থ অবস্থানে কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া (১৩টি মামলা), এবং পঞ্চম স্থানে রয়েছেন ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সরেন, যার বিরুদ্ধে ৫টি ফৌজদারি মামলা বিচারাধীন।
এছাড়া আরও কয়েকজন মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধেও মামলা রয়েছে। কেরালার মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নের বিরুদ্ধে ২টি, মহারাষ্ট্রের দেবেন্দ্র ফড়নবীশ, হিমাচল প্রদেশের সুখবিন্দর সিং, এবং পাঞ্জাবের ভগবন্ত মানের বিরুদ্ধে রয়েছে ১টি করে মামলা।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক তথ্য হলো, এই ১২ জন অভিযুক্ত মুখ্যমন্ত্রীর মধ্যে ১০ জনের বিরুদ্ধেই রয়েছে হত্যা, অপহরণ, ঘুষ গ্রহণ এবং ভয়-ভীতি প্রদর্শনের মতো গুরুতর অভিযোগ।
এডিআরের প্রতিবেদনটি এমন সময় প্রকাশ পেল যখন ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার পার্লামেন্টের লোকসভায় তিনটি নতুন বিল উত্থাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছে, যেখানে বলা হয়েছে— প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী বা কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যদি গুরুতর ফৌজদারি মামলা হয়, তাহলে মামলা দায়েরের ৩০ দিনের মধ্যেই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করতে হবে।
ভারতের আয়তন ৩২ লাখ ৮৭ হাজার ২৬৩ বর্গকিলোমিটার। দেশটিতে বর্তমানে রয়েছে ২৮টি রাজ্য ও ৮টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল, যার মধ্যে দিল্লি ও পদুচেরি মুখ্যমন্ত্রীশাসিত। ফলে দেশজুড়ে মোট ৩০ জন মুখ্যমন্ত্রী রয়েছেন, যাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশ ফৌজদারি মামলার আসামি।
এডিআরের এই প্রতিবেদন দেশের রাজনীতি ও প্রশাসনে স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে।
